কিভাবে একটি পারফেক্ট রেজ্যুমি লিখবেন

0
958

কিভাবে একটি পারফেক্ট রেজ্যুমি লিখবেন

আজকাল অনেক চাকরির আবেদনে সিভির বদলে রেজ্যুমি গ্রহণ করে। কিন্তু, আমরা অনেকেই ভুল করে রেজ্যুমির জায়গায় সিভি দিয়ে বসি। অনেকে জানিই না যে সিভি আর রেজ্যুমির মধ্যে পার্থক্য কি। আবার জানলেও এটা জানিনা যে রেজ্যুমি কীভাবে লিখতে হয়। তাই একটি পারফেক্ট রেজ্যুমি লিখতে যাতে আর কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য আজকের লেখাটি।
আমাদের আগের একটি পোস্টে সিভি ও রেজ্যুমির পার্থক্য সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছিলো। আজ প্রথমে তাই সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল।
সিভি হচ্ছে আপনার ব্যক্তি জীবনের সামগ্রিক বিবরণ। আর রেজ্যুমি হচ্ছে সংক্ষিপ্ত বিবরণ। সিভিতে আপনার ব্যক্তিত্বকে পূর্ণাঙ্গ রূপে তুলে ধরতে হবে। ছোট বড় সকল অর্জনগুলো বর্ণনা করবেন। স্কলারশিপ ও সরকারি চাকরির আবেদন করতে সিভি দিতে হয়।
রেজ্যুমি হচ্ছে সিভির সর্ট ফর্ম। আপনি যেখানে যে পোস্টের জন্য আবেদন করবেন সেই পোস্টের জন্য আপনার যে যোগ্যতা আছে সেগুলো সুচারুভাবে বর্ণনা করতে হবে। বর্তমানে বড় বড় মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি গুলো সিভির বদলে রেজ্যুমি গ্রহণ করে। কারণ একটি কোম্পানির CEO এর কাছে আপনার ৩ পৃষ্ঠার সিভি পড়ার সময় নেই।
রেজ্যুমি লেখার পদ্ধতি:
রেজ্যুমি অবশ্যই এক পৃষ্ঠার হতে হবে। তাই খুব অল্প তথ্য দিয়ে রেজ্যুমি সাজাতে হবে। রেজ্যুমিতে স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট ও ফন্ট সাইজ ব্যবহার করবেন। ( Calibri, 11)
রেজ্যুমিতে সিভির মত গাদা করে তথ্য দেবেন না। চাকরির জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দেবেন। কারণ সব তথ্য দিয়ে কোম্পানির CEO এর কোন কাজে আসবে না। সে আপনার কাছে এমন কিছু চায় যা তার কোম্পানীর কাজের সাথে সম্পৃক্ত। তাই বুঝে শুনে তথ্য দিবেন।
আপনার রেজ্যুমিতে আপনি নিম্নোক্ত অংশ গুলো যুক্ত করলে আপনার রেক্রুটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন

1. Personal Details:

একজন রেক্রুটার যাতে আপনার সাথে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারে, এই জন্য এই অংশটি প্রথমে দিতে হবে, তবে খুব সংক্ষেপে। কখনোই সিভির মত আপনার বাবা মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা ইত্যাদি উল্লেখ করবেন না। এই অংশে যে তথ্য গুলো যুক্ত করবেন তা হল-
নাম
বর্তমান ঠিকানা
মোবাইল
ইমেইল
লিঙ্কডইন আইডি
স্কাইপ আইডি
রেজ্যুমিতে কখনোই আপনার ফেসবুক/ টুইটার/ হোটস্ অ্যাপ আইডি যোগ করবেন না। স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এক না হলে স্থায়ী ঠিকানাও যোগ করার প্রয়োজন নেই। রেজ্যুমিতে ছবি যুক্ত করা না করা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। তবে আপনি যখন ইমেইলে রেজ্যুমি পাঠাবেন, তখন ছবি দেওয়াই ভালো।

2. Career Objectives:

এই অংশে আপনাকে সুস্পষ্ট করে বলতে হবে কেন আপনি এই চাকরিটি চান। এজন্য এই চাকরিটির মাধ্যমে আপনি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করবেন- তা বর্ণনা করতে হবে। তবে এমন কিছু বলবেন না যা আপনার দ্বারা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। যেমন আপনি যদি মার্কেটিং এর চাকরি করে বিজ্ঞানী হতে চান তবে আপনাকে অনন্ত জলিলের সাথে তুলনা করা হবে। তাই খুব ভেবে চিন্তে এই চাকরি করে সর্বোচ্চ কোন পজিশনে পৌছানো সম্ভব বা কি কি অর্জন করা যাবে সেই সব বিষয় গুলো উল্লেখ করতে হবে।

3. Summary Of Qualification:

একটি বড় কোম্পানির বড় কোন পোস্টে আবেদন করলে রেক্রুটার আপনার কাজ কাছে কিছু অভিজ্ঞতা আশা করবেন। তাই আপনি আবেদনকৃত এই চাকরির সাথে সম্পর্কিত কি কি অভিজ্ঞতা আছে তা উল্লেখ করতে হবে। সাধারণত কেউ প্রথম পর্যায়েই খুব বড় পর্যায়ের চাকরি পায় না। প্রথম পর্যায়ে যে ছোট পরিসরের চাকরি গুলো আপনি করেছেন, সেগুলো যদি আবেদনকৃত চাকরির সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে সেগুলো এই অংশে যোগ করবেন। ধরি আপনি স্কয়ারে Production Manager হিসেবে পূর্বে কাজ করেছেন। তাহলে আপনি এইভাবে বর্ণনা করতে পারেন:
Ex Production Manager, Square Pharmaceuticals Ltd.
আপনি যদি চাকরিটির সাথে সম্পর্কিত কোন গবেষণা করে থাকেন যেমন থিসিস, পিএইচডি করে থাকেন, তবে অবশ্যই যুক্ত করবেন। এতে রেক্রুটারের কাছে আপনার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভ্যালু যুক্ত হবে।
আপনি যদি কোন ইন্টার্নশীপ করেন তাও উল্লেখ করবেন। তবে তা হতে হবে চাকরি সম্পর্কিত।
এছাড়াও চাকরি সম্পর্কিত যদি আরও কোন অর্জন আপনার ঝুলিতে থাকে তবে অবশ্যই আপনার ঝুলিটি খালি করুন এবং নিজেকে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করুন।

4. Professional Experience:

Summary of qualification এবং work experience আপদ দৃষ্টিতে এক মনে হলেও পার্থক্য আছে। Summary of qualification এ আপনি চাকরি সম্পর্কিত সকল অর্জনগুলো তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু work experience এ আপনি পূর্বে কি কি চাকরি করেছেন সেগুলো বলতে হবে। তা চাকরির সাথে সম্পর্কিত হোক বা না হোক। এটি রেক্রুটারকে ধারণা দিবে আপনার পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে এবং আপনার কাজ করার সামর্থ্য সম্পর্কে। এটি লিখবেন summary of qualification এর মতো করেই।

5. Education

সিভিতে সাধারণত আপনার সারা জীবনে অর্জিত ডিগ্রী গুলোর বর্ণনা থাকে। তবে রেজ্যুমিতে আপনার সর্বশেষ ডিগ্রীর বর্ণনা দেবেন। কারণ রেক্রুটার জানেন যে আপনি এর আগের পর্যায় গুলো পাস করেই এসেছেন। এক্ষেত্রে আপনার অর্জিত ডিগ্রী, অর্জনের সাল, বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, যে শহরে সেটি অবস্থিত, সিজিপিএ পর্যায়ক্রমে যুক্ত করবেন। আপনি শিক্ষা জীবনে কোন গবেষণা করলে অবশ্যই তা যুক্ত করবেন। ফলে আপনার শিক্ষা জীবন কতটুকু সজ্জিত তা ফুটে উঠবে। যেমন-
Master’s of Science in Engineering, 2018,
Dept. Of Applied Chemistry and Chemical Engineering, University of Rajshahi, Rajshahi.
CGPA: 3.50.
Thesis : Nano crystal particles.

6. Extra-curricular activities:

আপনি পড়াশোনা বাদে সামাজিক উন্নয়নের জন্য আর কি কি করেন তা এই অংশে যুক্ত করবেন। এটি চাকরি সম্পর্কিত হতে হবে এমন নয়। এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে রেক্রুটারের কাছে উপস্থাপন করবে এবং আপনি একটা এক্সট্রা ভ্যালু পাবেন। আপনি কোন কোন ক্লাব, সংগঠনের সাথে যুক্ত, কাজ করেছেন, ভলান্টিয়ারের কাজ করেছেন তা তুলে ধরতে পারেন। যেমন –
Member, Rajshahi University Higher Study Club.

7. Leadership

আপনার যদি একটি দল বা গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকে তবে এই অংশে যুক্ত করতে পারেন। এর মাধ্যমে রেক্রুটার জানতে পারবে ভবিষ্যতে আপনাকে কোম্পানির ম্যানেজার করা যাবে কি না। আপনার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রেক্রুটারের কাছে আপনার ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করে তুলবে। এই অংশটি extra-curricular activities এর মধ্যে দেওয়া যায় তবে আলাদা দেওয়াই ভালো। যেমন আপনি যদি কোন সংগঠনের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন, তবে তা রেজ্যুমিতে যুক্ত করবেন।

8. Awards:

আপনি যদি আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ে কোন পুরস্কার লাভ করেন তবে রেজ্যুমির এই অংশে যুক্ত করতে পারেন। এটি আপনার প্রতিযোগীতা করার ক্ষমতা এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে রেক্রুটারকে সহায়তা করবে।

9. Skills:

পারফেক্ট রেজ্যুমির জন্য এই অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মধ্যে কি কি স্কিল আছে অর্থ্যাৎ আপনার চাকরিটি করার জন্য বাড়তি কি কি গুণাবলী রয়েছে তা বলতে হবে। বর্তমানে প্রায় সব চাকরিতেই কম্পিউটার স্কিল চায়। তাই কম্পিউটারের বেসিক কিছু প্রোগ্রাম যেমন- Word, Excel, PowerPoint ইত্যাদি আপনাকে জানতেই হবে। অফিসের কাজে এইসব বেশি ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি কোন প্রোগ্রামিং ভাষা জানেন তবে তা অবশ্যই উল্লেখ করবেন। কিছু চাকরিতে Python ভাষাটি চাওয়া হয়। তাই Python শিখলে বেশি কাজে দিবে। এছাড়াও অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষা জানলে যুক্ত করবেন। এতে এক্সটা ভ্যালু পাবেন। এছাড়াও আপনি যদি কোন বিদেশী ভাষা লিখতে ও বলতে দক্ষ হন তবে তা রেজ্যুমিতে যুক্ত করবেন। এক্ষেত্রে ইংরেজী অবশ্যই যুক্ত করবেন। এছাড়াও যদি স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, আরবী, পর্তুগিজ ইত্যাদি ভাষার উপর দক্ষতা থাকে তা রেজ্যুমিতে যুক্ত করবেন।
আপনার চাকরি জীবন সাফল্য মন্ডিত হোক ।
এই কামনায়

Muhammad Asad Uz Zaman

Facebook Comments